বড় স্বপ্ন আছে ‘ইনশাআল্লাহ্‌ আমরা উইন খরমু’

ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে ফেরা হামজা চৌধুরীকে নিয়ে তখন সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ভক্তদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন বাফুফে কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা। তার মধ্যেই তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন। বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটে তখন শত শত ক্যামেরা, মোবাইল ফোন আর মানুষের ভিড়। অনবরত ‘হামজা-হামজা’ স্লোগান। সবাই যেন হামজার মুখ থেকে কিছু শুনতে চাইছেন। বাফুফের কর্মকর্তারা কোনোভাবেই সমর্থকদের উল্লাস থামাতে পারছেন না। বার বার  সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা চালালেন হামজার আশপাশে থাকা বাফুফে কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ওই কোলাহলের মধ্যেই প্রশ্ন শুনলেন হামজা, যার কিছুই ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। তবে ভক্তদের দেখে হামজার মুখে হাসি লেগেই ছিল। সেখানে সিলেটি ভাষায় বললেন, ‘ইনশা আল্লাহ, আমরা উইন খরমু।’ 

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জার্সি গায়ে তুলতে যাওয়া হামজা যুক্তরাজ্য থেকে দেশের মাটিতে পা রাখেন পৌনে ১২টার দিকে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ফুটবলারকে বরণ করে নিতে সকাল থেকেই সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড়। হামজার দেশে ফেরা নিয়ে গত কয়েক দিন দেশের ফুটবলে আলোড়ন উঠলেও বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনের কোনো ব্যবস্থা করেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের কর্মীদের পাশাপাশি প্রচুর ইউটিউবার ক্যামেরা হাতে বিমানবন্দরে হাজির হন। হামজাকে অভিনন্দন জানানো ব্যানার নিয়ে হাজির হওয়া সমর্থকেরাও জড়ো হন একই জায়গায়। সব মিলিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি প্রবেশপথের সামনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর মধ্যেই বিমানবন্দরে অবতরণের পর হামজাকে নিয়ে আসা হয় গণমাধ্যমের সামনে। ‘হামজা, হামজা’ স্লোগান এবং ভিড়ের সামনে তাকে বেশ হাসিখুশি দেখা গেছে। তবে কোলাহলের কারণে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করতে সময় লেগেছে। দেশে ফেরা এবং মানুষের ভিড় নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে হামজা বলেন, ‘অ্যামেজিং, অ্যামেজিং’। হামজার বাংলাদেশ দলে অভিষেক হওয়ার কথা রয়েছে আগামী মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রথমে হট্টগোলের কারণে বুঝতেই পারেননি হামজা। নিজেই পাল্টা জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমি বুঝছি না, বুঝছি না।’ এরপর আবার বুঝিয়ে বললে হামজা বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ আমরা উইন খরমু। আমার বড় স্বপ্ন আছে। কোচ হাভিয়েরের সঙ্গে কাজ করব। ইনশা আল্লাহ আমরা উইন করিয়া প্রোগ্রেস করতে পারমু।’ এরপর আরও প্রশ্নের উত্তর দিতে চেয়েছিলেন হামজা। 

তবে বাফুফে কর্মকর্তারা তাকে সরিয়ে নিয়ে যান। সিলেট বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হবিগঞ্জের দিকে রওনা দেন হামজা। বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় নিজের পৈত্রিক বাড়ি যান হামজা। সেখানে পরিবারের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে আজ সন্ধ্যার ফ্লাইটে ঢাকা ফিরবেন। এরপর একদিন অনুশীলন করে দলের সঙ্গে শিলংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা এই ফুটবলার। আগামী ২৫শে মার্চ শিলংয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে নামবেন ভারতের বিপক্ষে প্রতীক্ষিত ম্যাচে। তবে দেশের মাটিতে খেলতে আরও অপেক্ষা করতে হবে ইংল্যান্ড প্রবাসী এই মিডফিল্ডারকে। দেশের মাটিতে হামজা প্রথম খেলার সুযোগ পাবেন আগামী ১০ই জুন, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হোম ম্যাচে। সেই ম্যাচটি বাফুফে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে চায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সদস্য ও কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস। তিনি বলেন, ‘১০ই জুন হামজা বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম খেলবে। অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী স্টেডিয়ামে এসে ম্যাচটি দেখতে চাইবে। জাতীয় স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা বেশি। এটি দেশের প্রধান ফুটবল ভেন্যুও। আমরা চাই ঢাকায় হামজার প্রথম ম্যাচ জাতীয় স্টেডিয়ামে হোক। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন পর ফুটবল ফিরবে। তাই বড় ম্যাচ দিয়েই হোক সেই ফেরা।’ 
 সূত্র: মানবজমিন

error: