জুবায়ের আহমেদ:
মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যে তিন মাস অতিবাহিত করেছে। জনগনের যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেছিল তার ধারে কাছেও নেই ইউনুস সরকার। দুই হাজার ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে জাতির কাঁধে ভূতের মত গত ১৬ বছর ধরে বসে থাকা ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর- আওয়ামী আমলে যারা নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিল বিশেষ করে জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনে তারা এখনও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত।অভিযুক্তরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ালেও অজানা কারনে তাদের আইনের আওতায় আনছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বর্তমান পুলিশ বাহিনীতে ৯০% পুলিশ ছাত্রলীগের কর্মী। যারা এখনও শুধু সুযোগের অপেক্ষায় আছে।সময় হলেই শেখ হাসিনার ইশারায় বিদ্রোহ করে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চায় খুনি হাসিনাকে। তবে অতি চালাক ইউনুস-আসিফ গং ক্ষমতার মূহে প্রশাসনে ঘাপটি মারা স্বৈরাচারের দোসরদের সাথে নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে,”যে যায় লংকায় সেই হয় রাজা”। এ কথা উপদেষ্টাদের বেলায় এখন বাস্তব সত্য। এত বড় একটা অভূত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা এ সকল উপদেষ্টাদের কাজের গতি দেখলে মনে হয় আরাম আয়েশের জন্যই তাদের বসানো হয়েছে সেখানে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা কোন উন্নতি হয়নি গত ১০০ দিনে। মব জাস্টিস এক আতঙ্কের নাম দেশ জুড়ে। এখনো মব জাস্টিসের নামে প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে অহরহ।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও শালিসকেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগস্ট থেকে অক্টোবর— এই তিন মাসে দেশে গণপিটুনিতে ৬৮ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় নিহত হয় ২৮ জন। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক মব সহিংসতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি অপরাধের তদন্ত করতে হবে।’
দেশের মূল্যস্ফীতির উর্ধগতি মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুসারে, অক্টোবর মাসে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৯.৯২ শতাংশ।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে প্রায় ২৪ হাজার আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সঠিক যাচাই বাছাইয়ের মার পেছে সেগুলোর বাস্তবায়নে তৈরি হয়েছে জটিলতা।এ সব কাজ নিয়ে গঠিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ এর সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম দেখিয়েছেন
চরম ব্যর্থতা। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আহতরা কাতরালেও টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা হচ্ছে না। সারজিস আলম নামের এ সার্ভিস আলম জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সব চেয়ে সুবিধাভোগীদের একজন হলেও ভুলে গেছেন বিপ্লবের আত্তহুতি দানকারীদের। তার বিরুদ্ধে ‘শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ এর চেক আহতদের সময়মত না দেয়া, আহতদের টাকা দেবার নাম করে জেলা শহর সফর করে দলীয় সমাবেশ করা সহ রয়েছে ফাউন্ডেশনের টাকা মেরে নিজের ব্যাংক একাউন্টের ব্যালেন্স বাড়ানোর।
এছাড়া, সমন্নয়ক হাসনাত-সারজিসরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডিসি-এসপি থেকে বিভিন্ন পদে কারা নিয়োগ হবে তাতে হস্তক্ষেপ করছে। সচিবালয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তানভীর আহমেদ নামের এক ব্যক্তি খবরদারির করে থাকে। ইউনুস সরকার মূলত এদের কথার ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে যা দেশের ভবিষ্যৎ এর জন্য মোটেও সুখকর নয়। তারা মব জাস্টিস কে উস্কে দেয়ার ফলে ছাত্ররা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন মতাবলম্বিদের উপর হামলা করছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে জন জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে। এতে করে নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে সমন্নয়ক। অবিলম্বে সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল প্রকার শোষণ-পীড়ন ও দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ উপহার দেওয়া দিতে হলে এসকল নব্য ফ্যাসিবাদীদের লাগাম টেনে ধরার কোন বিকল্প নেই।
জুবায়ের আহমেদ
সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী